Notice :
Welcome To Our Website...
হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ফুটবলে জাগরণ তুলতে পারবেন..

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ফুটবলে জাগরণ তুলতে পারবেন..

মোশাররফ হোসেন : খৃস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দিতে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার ব্যবিলন শহরে ইঁদুরের উৎপাতে মানুষ ছিল অতীষ্ট । তারা এ থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিল । এমন সময় ব্যবিলনে এল হ্যামিলনের বংশিবাদক । সে জানায় তার বাঁশির সুরে শহর থেকে ইদুর চলে যাবে । অনুমতি দিলেন তৎকালিন রাজা। বংশিবাদকের বাঁশির সুরে সব ইদুর চলে গিয়েছিল । এটি একটি গল্প  যা অনেকে পড়েছন ।

সুপ্রিয় পাঠক নিজগুণে ক্ষমা করবেন ।বাংলাদেশের ফুটবলে জাগরণ তুলতে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার উপমা কেন ? কারণ ফুটবল মাঠে দর্শকের খরা চলছে । যার সূচনা নব্বই দশকের শেষে । বিদেশী দল ও বিদেশী খেলোয়াড় ছাড়া মাঠে দর্শক আসছেন না । তদুপরি বিশ্বকাপ ও ইউরোপীয় কাপ , লাতিন আমরিকা কাপ,বিভিন্ন দেশের পেশাদার লীগ সরাসরি টিভিতে দেখার পর দর্শকরা মাঠে গিয়ে নিম্নমানের খেলা দেখতে আগ্রহী হন না , আরও রয়েছে পাতানো খেলা ।

অনিয়মিত লীগ ও টুর্নামেন্ট  অথচ সারা দেশে এখন ভোট হলে দেখা যাবে সাধারণ মানুষ ফুটবলের পক্ষে ভোট দেবে বেশি । তৃণমূলে ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা । ফুটবল খেলেননি এমন পুরুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন । এখন তো বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল আছে । তারা সাফ পর্যায়ে সারা জাগিয়েছে । আমরা এখনই ভাবছিনা ফুটবলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলবে । তবে সেভাবে খেললে বাছাই পর্বে সারা জাগানো সম্ভব । এশিয়াতে কিংবা সাফ ফুটবলে আরও ভাল ফলাফল করা যায় । বিশ্বফুটবল র‌্যাংকিংয়ে ১৮৭ থেকে ১৫০ এ যাওয়া কঠিন কাজ নয় । এজন্য দরকার পরিকল্পিত ফুটবল ।বছর জুড়ে সারা দেশের ফুটবল সূচি ও তার বাস্তবায়ন । খেলার মাঠ ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েনকে কাজে লাগানো জরুরি । তৃণমূল থেকে তুলে আনতে হবে বাংলাদেশের আগামী তারকা ফুটবলার ও সংগঠক । সুযোগ দিতে হবে সকলকে ।

ঢাকার ক্লাবসমুহ ও জেলা ,বিভাগের প্রতিভাবান সংগঠকদের মধ্যেগড়েতুলতে হবে গভীর সম্পর্ক । অভিজ্ঞরা জায়গা ছেড়ে দেবেন আগামীর যোগ্য নেতৃত্বকে । মনে রাখা দরকার অভিজ্ঞ ও তারুন্যের সমন্বয়ে দেশের ফুটবলে জাগরণ তোলা সম্ভব । তলানি থেকে আবার জেগে উঠুক আমাদের ফুটবল । ২০০০সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জনের পরও বাংলাদেশের ক্রিকেটে জাতীয় লীগ ও বিপিএল , প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে দর্শকের খরা আজও আছে । তবে বিশ্বকাপ ,এশিয়া কাপ, টি টোয়েন্টি , দুই দেশের মধ্যকার ওয়ানডেতে গ্যলারি দর্শকে পূর্ণ থাকে , টেস্টে থাকে ফাঁকা  আসলে দর্শকের দৃষ্টি এখন উন্নত মানের দিকে ।

গত ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন হয়েছে । এতে কাজী সালাউদ্দিন ৯৪ ভোট পেয়ে চতুর্থবারের মত সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৩৯ জন ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় প্রতিনিধিসহ অন্যান্যদের মধ্যে ১৩৫ জন ভোট প্রদান করেন । সাধারণ সভায় যোগ দেননি চট্টগ্রাম আবাহনীর সিনিয়র সহ সভাপতি ও ব্যবসায়ি রুহুল আমিন তরফদার , শেখ জামালের সভাপতি ও ব্যবসায়ি সাফওয়ান সোবহান, শেখ রাসেলের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদুর রহমান , ফরিদপুর জেলা এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন । সভাপতি পদে দাঁড়িয়েছিলেন দেশবরেন্য সাবেক কৃতি ফুটবলার ও বাফুফের গেল তিনবারের সহ সভাপতি বাদল রায় । তিনি অসুস্থতার কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়ে আবার ভোটের আগের দিন নির্বাচনের দৌড়ে যোগ দেন এতে করে প্রতিযোগিতায় তিনি পিছিয়ে পড়েন  ৪০ ভোট পান তিনি । নতুবা সালাউদ্দিনের সংগে লড়াই হতে পারত সমান তালে ।

সিনিয়র সভাপতি পদে ব্যবসায়ি ও সাবেক কৃতি ফুটবলার এমপি সালাম মুর্শেদি জয়ী হন ৯১ ভোট পেয়ে। এ পদে সাবেক কৃতি ফুটবলার ও কাস্টম কর্মকর্তা শেখ আসলাম পান ৪৪ ভোট । সহ সভাপতি পদে ঢাকা আবাহনীর কাজী নাবিল , বসুন্ধরা কিংসের ইমরুল হাসান , আতাউর রহমান ভূইয়া নির্বাচিত হন । টাই হওয়ায় অন্যটি ৩১ অক্টোবর ভোটে নির্ধরিত হবে|নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন , এবার তিনি প্রতিশ্রুতি পালন করবেন । গেল ১২ বছরে একটা জায়গায় এসেছে ফুটবল । আগামীতে এগিয়ে নেয়া হবে ।

এবার প্রতিবছর সারা দেশে যুব টুর্ণামেন্ট হবে । লীগ হবে ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী । ফেডারেশন ও খেলায় কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে । যে জেলায় লীগ হবেনা তাদের প্রতিনিধিত্ব বাতিল করা হবে । খেলোয়াড়রা গত মৌসুমে ক্লাবের সাথে চু৩ি অনুযায়ী একই ক্লাবে খেলতে হবে । দলবদল হবেনা  তবে লীগ শুরুর আগে ক্লাবকে খেলোয়াড়দের ৪৫ ভাগ টাকা দিয়ে দিতে হবে বলে লীগ কমিটির সভায় ইতিপূর্বে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে । এরকম অবস্থায় ফুটবলাররা বিপাকে রয়েছে । একজন যুবক ও যুবতী কেন ফুটবল খেলবে ? তারা জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তা চায় । তাদের সামনে থাকতে হবে উজ্জল ভবিষ্যৎ । নতুবা লেখাপড়া শেষে ভিন্ন পেশা বেছে নেবে এটাই স্বাভাবিক । তাই ঘুমিয়ে পড়া ফুটবলকে জাগাতে একজন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা চাই । অহংকার করে কারও বলার দরকার নেই ‘ আমি আছি বলে ফুটবল এখনও আছে ।’মনে রাখা দরকার এ দেশ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন  হয়েছে । সময়ের সাহসী সন্তান আসবেই  তাদের হাতে ফুটবল জেগে উঠবে । ও আলোর পথযাত্রী.. মিশে রাত্রি , এখানে থেমোনা ..।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com