Notice :
Welcome To Our Website...
স্মৃতিময় দিনগুলি….. অধ্যাপক মীজানুর রহমান মিয়া

স্মৃতিময় দিনগুলি….. অধ্যাপক মীজানুর রহমান মিয়া

পর্ব ৪ : কর্মজীবন ও মুক্তিযুদ্ধ
১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পকিস্তান পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষা ̄স্বাস্থ্য গবেষনা কেন্দ্রে ‘গবেষনা কর্মকর্তা’ হিসেবে আমার ও বন্ধু মাহবুব জামিলের চাকুরি হয় । জামিল পরদিনই যোগ দিতে রাজি হয়। আমি তিন মাস পরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলাম।

থানা পরিবার পরিকল্পনা অফিসারদের মোবাইল টিম করে আমরা একের পর এক দলকে প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করি । ৬/৭টি থানা মিলে এক একটি দল গঠন করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে প্রশিক্ষণ চলছিল । এতে আমি সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি । আমাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যাবস্থা করা হোত অফিস থেকে । তদুপরি টিএ ও ডিএ দেয়া হোত । এতে ভালভাবেই জীবন যাপন করা সম্ভব ছিল । উপভোগ্য হলেও এক পর্যায়ে ভাবতে শুরু করি কী করে জীবনকে আরও উন্নত করা যায়। এরকম অবস্থায় বিদেশে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য চেষ্টা শুরু করি । যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়,বার্কলিতে বৃত্তি নিয়ে এমপিএইচ পড়ার জন্য পরিবারসহ চলে যাই ১৯৬৮ সালের সেপ্টেম্বরে । পড়াকালীন সময়ে ১৯৬৯এর ফেব্রুয়ারি মাসে ওকল্যান্ডের কাইজার হাসপাতালে আমাদের প্রথম সন্তান জয়ের জন্ম হয় । অত:পর এমপিএইচ শেষ করে ১৯৬৯ সালের সেপ্টেম্বরে আমরা ফিরে যাই দেশে । ঢাকার মনিপুরি পাড়ার বাসায় বসবাস করা অবস্থায় তখন গণঅভ্যুথানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মুক্তিলাভ করেন ।

রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগে যোগদান করে আমাকে মাদারীপুর জেলার কালকিনিতে যাবার জন্য অনুরোধ করেন শেখ ফজলুল হক মনিসহ অনেক শুভকাঙ্খি ও বন্ধুরা। সেখানে দলকে সংগঠিত করে অনেকে আসন্ন ১৯৭০ সালের নির্বাচনে এমপি পদের জন্য তৈরি হওয়ার কথা বলেন । কিন্তু বিদেশ থেকে পড়া শেষ করে কেবল ফেরায় নির্বাচনের খরচ চালানোর মত কোন টাকা আমার কাছে ছিলনা । এমতাবস্থায় আমার অপারগতায় তৎকালীন মাদারিপুরের এডভোকেট মতিউর রহমানকে দল মনোনয়ন দেয় এবং পরে ১৯৭৩ সালে জনাব আবদুর রাজ্জাককে দল মনোনয়ন দেয় । তিনি তার এলাকা পট্টি -ড্যামুড্ডিয়ার বাইরে কালকিনিতেও নির্বাচনে মনোনয়ন পান এবং জয়ী হয়ে যান । এতে আমি তাকে পুরো সমর্থন জানাই ।

মাদারিপুর- কালিকিনিতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ , তৎকালীন রেসকোর্স মাঠে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষনে “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম , এবারের সংগ্রাম ̄স্বাধীনতার সংগ্রাম ” ঘোষনার পর আমাদের মনিপুরি পাড়ায় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয় এবং আমাকে তার সভাপতি করা হয় । ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর বাড়ি থেকে বঙ্গবন্ধু নির্দেশে তখন বাঙালিরা কাজ করছেন ।অসহযোগ আন্দোলন চলছে । অফিস আদালত বন্ধ । রেল , লঞ্চ নৌকা,বাস ট্রাক চলছে । কাঁচাবাজার খোলা ছিল । বঙ্গবন্ধু মাসশেষে অফিসে গিয়ে বেতন আনার নির্দেশ দেন ।এরকম অবস্থায় প্রতিদিন আমরা সদ্য তৈরি স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা মনিপুরি পাড়ায় আমার বাসায় উত্তোলন করেছিলাম । পাকিস্তান সরকারের নিপিড়ন বেড়ে চলছিল ।তারা বড় রকমের অপারেশনের জন্য তৈরি হতে থাকে । দিনে দিনে বাঙালিরা সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল । আমরা বুঝে গেলাম এবার আর ওদের সাথে থাকা যাবেনা ।

২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আপারেশন সার্চলাইটে গুলি ,শেলিং মিলে মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ে । পিলখানায় ইপিআর , রাজারবাগ পুলিশ লাইনে প্রতিরোধ যুদ্ধে হতাহত হন বাঙালিরা । ঐদিন ভোররাতে আমার বাসায় পাকসেনারা এসে খালাতো ভাই এমদাদকে গুলি করে হত্যা করে । তার অপরাধ হলো আমাদের বাসায় উত্তোলিত স্বাধীন বাংলার পতাকা নামাতে অস্বীকার করা । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মারা যান অনেকে ।ঢাকাজুড়ে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী । এতে মারা যান হাজার হাজার মানুষ। বিভিন্ন সেনানিবাসে বিদ্রোহ ঘোষনা
করে বাঙালি সেনা অফিসার ,সৈন্যরা ।পুলিশ , ইপিআর , সেনা ,নৌ, বিমানবাহিনী থেকে পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেন । পরবর্তীতে তারা ভারতে গিয়ে প্রবাসি বাংলাদেশ সরকারের পরিচালনায় বিভিন্ন প্রশিক্ষন কেন্দ্র গড়ে তুলে মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শুরু করেন । তারা
প্রশিক্ষণ নিয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে দেশের জন্য যুদ্ধ করেন ।

২৬ মার্চ ভোরে নারায়নগনজের তৎকালিন এমপি এ কে এম সামসুজ্জোহার সাথে মিলে ঢাকা -নারায়নগনজ সড়কে গাছ ফেলে অবরোধ তৈরি করেছিলাম । এখানে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছিল। তখন জামাল মাঝির লঞ্চ ঢাকা টরকি যাতাযাত করতো । লঞ্চের সারেং বললেন , আমরা বরিশালের টরকি যাব । তবে পথে কাউকে এলাকার ঘাটে নামাতে পারবনা । টরকি,গৌরনদী,গইলা, বারথি .কালকিনির বহু যাত্রী সাহেব রামপুরের চরে নেমে হেঁটে বাড়ি গিয়েছিলাম গৌরনদী আগৈলঝাড়ার নির্বাচিত এমএনএ ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধুর
ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত , এমপি করিম সরদার তখন ভারতের কোলকাতা চলে গেছেন। আওয়ামীলীগও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ , যূবনেতৃবৃন্দ ছাত্রনেতৃবৃন্দ সবার গন্তব্য তখন বন্ধু রাষ্ট্র ভারত । তাজউদ্দিন, নজরুল ইসলাম,কামরুজ্জামান, মনসুর আলী ১৭ এপ্রিল,১৯৭১ মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় প্রবাসি সরকার ঘোষনা করেন । এর আগে তারা ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে যোগাযোগ করেন। প্রবাসি সরকার, বাঙালি কর্নেল এম এ জি ওসমানী ,মেজর খালেদ মোশাররফ, শফিউল্লাহসহ বিদেধাহী সেনা অফিসার ,চার যুবনেতা শেখ
মনি ,সিরাজুল আলম খান ,আবদুর রাজ্জাক ,তোফায়েল আহমেদ ,চার ছাত্রনেতা নুরে আলম সিদ্দিকী ,আ,স,ম আবদুর রব ,আবদুল ক্দ্দুুস মাখন ,শাহজাহান সিরাজসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যৌথসভা করে মুক্তিযুদ্ধের পরিকল্পনা গ্রহন করেন। এরপর ভারতের প্রতিরক্ষাবাহিনীর শীর্ষ
কমান্ডারদের সাথে প্রবাসি সরকারের বৈঠকে সর্বস্তরের ছাত্র যুবক ,কৃষক, শ্রমিক জনতাকে যুদ্ধের অস্ত্র প্রশিক্ষণ প্রদান ও যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১১টি সেকটরে ভাগ করেন ।ভারত থ্রি নট থ্রি রাইফেল ,এস এল আর , স্টেনগান ,হ্যানড গ্রেনেড, রকেট লানচারসহ মুক্তিবাহিনী ও মুজিব বাহিনীকে সরবরাহ করে ।

আমাদের এলাকায় প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিবাহিনী কমান্ডার মিয়াজউদ্দিন খান ও মুজিববাহিনী কমান্ডার জালাল মাদারীপুরের কালকিনি আসেন । আমি মিয়াজউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে অস্ত্র চালনা শিখিয়ে বললেন আপনি আমাদের সাথে যোগ দেন। রাজি হয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করলাম । আমার সাথে আমিরুল ইসলাম খান যোাগ দেন । যুদ্ধকালীন সমযে সে ছিল আমার সহযোদ্ধা । সাহেবরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে তাদের ক্যাম্প ̄স্থাপন করা হয় ।

গৌরনদী কলেজ পাকসেনা ক্যাম্প অবরোধ ও যুদ্ধ
পাকিস্তানি সেনারা বরিশাল ঢোকে এপ্রিল মাসে । বরিশাল সদর উত্তর নিয়ন্ত্রন করার জন্য তারা গৌরনদী কলেজ কলেজে ক্যাম্প করে এলাকার বিভিন্ন অপারেশন করছিল । এটা দখল ও ̧ড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে কলেজে পূবদিক থেকে মিয়াজউদ্দিন ও জালালের নেতৃত্বে আমরা , পশ্চিম দিক থেকে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ’র নেতৃত্বে হেমায়েত বাহিনীর একটি অংশ , দক্ষিণ দিক থেকে হোসনাবাদের নিজামের নেতৃত্বে একটি দল মিলে ত্রীমুখি আক্রমন পরিচালনা করা হয় ।প্রচন্ড এ যুদ্ধে পাকসেনাদের একটি অংশ গৌরনদী কলেজ থেকে পিছু হটে বরিশাল চলে গিয়েছিল । এ যুদ্ধে আমাদের একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন ।পাকিস্তানি সেনা মারা যান ৭/৮জন ।

এরপর ৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতের মিত্রবাহিনীর সাথে আকাশ যুদ্ধ শুরু হলে যশোর সেনানিবাসের পাকবাহিনী পিছু হটে ঢাকা চলে যায়। তবে এখানে ৯ নম্বর সেকটর কমান্ডার মেজর জলিলের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনীর সাথে প্রচন্ড যুদ্ধ হয় । অবশেষে যশোর সেনানিবাস পদানত হবার খবর পেয়ে বরিশাল থেকে পাকসেনারা ভীত হয়ে ঢাকা পালিয়ে গিয়েছিল ।১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে । এরপর ১৮ জানুয়ারি আমরা মিয়াজউদ্দিন ও জালালের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দেখা করে ঢাকার পিলখানার ভেতর আমাদের এলাকার তৎকালীন এমপি ,যুবনেতা আবদুর রাজ্জাকের কাছে মুক্তিযুদ্ধে ব্যাবহার করা অস্ত্রসমুহ জমা দেয়া হয়েছিল ।

৩০ লক্ষ মানুষের প্রানের বিনিময়ে ,দুই লক্ষাধিক মা বোনের সমভ্রমহানির পর আমরা বিজয় লাভ করি । আজ ৭৮ বছর বয়সে ̄স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে আমি শ্রদ্ধা জানাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবিুর রহমান, জাতীয় ৪ নেতা তাজউদ্দিন ,নজরুল ইসলাম,কামরুজ্জামান, মনসুর আলীসহ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করি ।

চাকুরিতে যোগদান : মুক্তিযুদ্ধের পর “বীরাঙ্গনা পুনর্বাাসন কেন্দ্রে” মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত
হয়ে কর্ম শুরু করি । বিচারপতি কে এম সোবহান চেয়ারম্যান ও আবদুল আউয়াল সদস্য সচিব,রাফিয়া আকতার ডলি , বদরুন্নেসা আহমেদ , সদস্য । ঢাকায় ইপিআরইসির প্রধান কার্যা ̈লয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন উপ পরিচালক জাহাঙ্গীর হায়দার । ফরিদপুর ,কুস্টিয়া , রাজশাহী,
সিরাজগনজ ,সৈয়দপুরে নারী ধর্ষন হয়েছে সর্বাধিক । এসব এলাকায় রাজাকার , আলবদর ছিল বেশি । বিহারিরা সমানে অত্যাচার করেছে । আমরা ৫০০০ টাকার চেক দিতাম । এরপর ২ মাস কাজ করি সচিব টি হোসেনের সাথে ,তার কার্যালয়ে ।

এভাবে তো আর জীবন চলেনা । পরিবার নিয়ে কোনমতে সময় পার করছিলাম । অবশেষে ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ব বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেই । তৎকালীন সমাজতত্ব বিভাগীয় প্রধান ড: বদরুদ্দোজা স্যারের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং
সাবেক উপাচার্য্য ড: এ আর মল্লিক আগ্রহে এটা হয়েছিল ।

আমার যোগদানের পর পর বিভাগের শিক্ষক খাজা সামসুল হুদা , রুহুল আমিন ,মহিউদ্দিন হায়দার ,অনুপম সেন উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য বিদেশে চলে যান । তখন আমাকে সহযোগী অধ্যাপক করে ।উপাচার্য্য আবুল ফজল সাহেবের অনুমোদনে বিভাগের চেয়ারম্যান করা হয় । এমন পরিস্থিতিতে আমি ঢাকা থেকে মোশাররফ হোসেন , হাসনাত কুদ্দুসকে এনে সাময়িক নিয়োগদানের ব্যাবস্থা করি। বিভাগ চালাতে আরও শিক্ষক দরকার । অবশেষে নিরুপায় হয়ে একদিন বিকেলে আবুল ফজল সাহেবের চট্টগ্রাম শহরের বাড়িতে গিয়ে কথা বললে তিনি পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আমাকে সাক্ষাত করার জন্য নির্দেশ দেন । যথারীতি আমি দেখা করলে রেজিস্ট্রার খলিলুর রহমানকে সমাজতত্বে আরও ২জন শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করার নির্দেশ দেন । আর ২জনকে সাময়িক নিয়োগ দিতে বলেন ।পরবর্তীতে মোশাররফ হোসেন , শফিকুর রহমান, হাসানুজ্জামান চৌধুরি, জাকির হোসেন ,আসলাম ভূইয়া, ইমাম আলী ,গোলাম সরওয়ার ,আদিত্য
দেওয়ান , জ্যোৎস্না সেন ,আশরাফ আহমেদ,কাজী সদরুল হক ,আইনন মীজান ,গওসার রেজা,গাজী সালাউদ্দিনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়।এভাবে বিভাগের পূর্নতা আসে ।ক্রীড়া ,সংস্কৃতি ,উপজাতীয় কোটা আদায় করে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০, পরে আরও অনেক বেড়ে
বিভাগে প্রাণচানচল্য ফিরে আসে ।

একসময় আলাওল হলের প্রোভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলে আন্ত:হলের প্রতিযোগিতায় খেলাধূলায় শীর্ষস্থান অর্জন করে ।সাংস্কৃতিক সপ্তাহে নাটক ,সংগীতে একই ফলাফল । জাতীয় এথলেট ও দ্রুততম মানব মোশাররফ হোসেন শামীম ও দূরপাল্লার দৌড়বিদ কাজী আবদুল আউয়ালকে
আলাওল হলে আসন দেয়া হয়েছিল ।

এক পর্যায়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে ড: আবু হেনা মোস্তফা কামালের কাছে ৫ ভোটে হেরে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় অর্থবিষয়ক কমিটির নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলাম।এসময় তরুন ও প্রগতিশীল শিক্ষকরা আমাকে সমর্থন দেন ।সমাজবিজ্ঞান অণুষদের ডীন স্বনামধণ্য শিক্ষক অধ্যাপক আর আই চৌধুরি আমাকে সহয়োগিতা করেছেন বেশি । উপ উপাচার্য্য হিসেবে আমার সম্ভাবনা দেখে তৎকালীন হলিডে পত্রিকা ও বিচিত্রায় আমার বিপক্ষে প্রতিবেদন লিখেছিলেন আমার দু একজন শিক্ষক বন্ধু।তাই পিএইচডি শেষে আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি, কার্বোন্ডেল থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম ।

সমাজতত্বের শিক্ষকদের পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের কাজে সহযোগিতা করে আমি ১৯৭৯ সালের শেষে ড: মোশাররফ হোসেনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে আমেরিকার সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি ,কার্বোন্ডেলে সমাজতত্বে পিএইচডি করতে চলে এসেছিলাম ।আমার স্ত্রী আইনন মীজান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ব বিভাগের প্রভাষকের পদ থেকে পদত্যাগ করে আমার সাথে চলে আসে । পরে অনেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ব বিভাগে ফিরে আসেন । আর আমি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন শেষে ইলিনয়তে যোগ দিয়ে মাঝে ভালদস্তা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পরিচালক এর কাজ করি ।আজ অবসরে ভাবি সেই সোনালি দিন ̧লির কথা । সবাই ভাল থাকুন ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com