Notice :
Welcome To Our Website...
স্মৃতিময় দিনগুলি…….. অধ্যাপক মিজানুর রহমান মিয়া

স্মৃতিময় দিনগুলি…….. অধ্যাপক মিজানুর রহমান মিয়া

পর্ব : ৩ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন ১৯৬৫ সালে শেষ করেছিলাম । আমি ইকবাল হলের ছাত্র থাকাকালীন আমাদের আবাসিক শিক্ষক ছিলেন অধ্যাপক ড: ইয়াজউদ্দিন আহমেদ । যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

আমার সহপাঠি ও বন্ধু মাহবুব জামিল ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দিন আহমেদ এর বিশেষ সহকারি হিসেবে মন্ত্রীর মর্যাদায় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন, শিল্প , এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন । এ ছাড়া ইকবাল হলে আমার রুমমেট এডভোকেট সহুল হোসেন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কাজ করেছিলেন ।

সর্বোপরি পদার্থবিজ্ঞানের বোস প্রফেসর খ্যাত ড:মতিন চৌধুরি ছিলেন আমাদের ইকবাল হলের প্রাধ্যাক্ষ । যিনি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

হল ছাত্র সংসদের সমাজকল্যান ও নাট্য সম্পাদক হিসেবে ড: মতিন চৌধুরির সাথে আমার অতি ঘনিষ্ঠতা ছিল । খেলা ,সংস্কৃতি , লেখাপড়া, সবকিছুতে তিনি আমাকে সবসময় যে সহযোগিতা করেছিলেন তা আজও চির স্বরণীয় হয়ে আছে ।

কর্মজীবনে প্রবেশ ও উত্তাল ঢাকা

১৯৬৫ সালের শেষে এলএল বি পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিলাম ।তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের মার্শাল ল এবং মৌলিক গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ছিল প্রতিবাদমুখর । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মধুর কেন্টিনে আড্ডা আর মিছিল নিয়ে মেতে ছিলাম। সায়েন্স এনেক্স ভবনে এলএলবি ক্লাস হতো ।চাকুরির জন্য আবেদন করা শুরু করলাম ১৯৬৫ সালের শেষে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রশিক্ষণ একাডেমী (টিসিআরটি) সেন্টারে গেজেটেড অফিসার হিসেবে চাকুরি হলো।রাজশাহীতে যোগদানের জন্য আমার নিয়োগপত্র এল । কিন্তু বাবার আপত্তিতে তখন আর চাকুরিতে যোগদান করা হলনা ।

এরপর দেশের বাড়ি রমজানপুরে চলে গিয়েছিলাম । সেখানে টরকি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এক সভায় মিলিত হয়ে আমাকে টরকি বন্দর কলেজ করার প্রস্তাব দেন । তারা আমাকে উপ অধ্যাক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষের দায়িত্ব দেন। সেখানে প্রধান প্রকৌশলী সালাউদ্দিন সাহেব, ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুবের বাবা মাজেদ কাজী ,আবদুর রহমান শিকদার, ডা: মোয়াজ্জেম এবং গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্যরা মিলে আমাকে কলেজ নিবন্ধন ,শিক্ষক নিয়োগসহ যাবতীয় কাজের দায়িত্ব দেন। আমরা ১৯৬৫ সালে টরকি বন্দর কলেজ শুরু করেছিলাম । লেকচারার হিসেবে সামসুদ্দোহাকে নিয়োগ দেয়া হয় । সথে বিভিন্ন বিভাগে বাংলা , ইংরেজী ,অংক ,ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,যুক্তিবিদ্যা এসব বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হয় । মাদারিপুর,রমজানপুর,কালকিনি,রাজারপোল,সাহেব রামপুর, শিকারপুর, টরকি, বারথি এলাকা মিলে ছাত্রভর্তিতে বিপুল সাড়া পড়ে যায় ।

আরও পড়ুনঃ

মালদ্বীপে বোমা বিস্ফোরণে সাবেক প্রেসিডেন্ট নাশিদ আহত

এরপর যশোর বোর্ডে গিয়ে কলেজ নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম ।সেখানে কলেজ পরিদর্শক আমাদের কাছে টরকি বন্দর কলেজের জায়গা, পরিচালনা পর্ষদ , শিক্ষক নিয়োগ ,তাদের মেধা ও যোগ্যতা ,বেতন-ভাতা , আয় -ব্যয়, অধ্যায়ন বিভাগ , ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যাসহ যাবতীয় বিষয়ের কাগজ পত্র দেখাতে বলেছিল । আমরা সথে থাকা কাগজপত্র তাকে দেখানোর পর বলেছিলেন সরকারি আইন অনুযায়ী ২ মাইল এলাকার মধ্যে একই মডেলের একাধিক কলেজের অনুমােদন দেয়া সম্ভব নয়। তবে ভিন্ন মডেলে সেটা সম্ভব ।তখন এলাকায় ফিরে এসে কলেজ পরিচালনা পর্ষদকে সব অবহিত করলে তারা তৎকালিন বরিশাল জেলা প্রশাসক মুজিবুর রহমান এর সথে যোগাযোগ করেন। তিনি ১৯৬৪ সালে গড়ে ওঠা গৌরনদী কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ও টরকি বন্দর কলেজ পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে যৌথসভায় বসেন । গৌরনদী কলেজের পক্ষে হরলাল গাংগুলি , হালিম প্রফেসর ,সরদার শাহজাহান,শাহজাহান ঠাকুর এবং টরকি কলেজের পক্ষে জনাব প্রকৌশলী সালাউদ্দিন, জনাব মাজেদ কাজী ,কাজী গোলাম মাহবুব, সামসু মাঝি যোগদান করেন । তখন টরকি কলেজকে টেকনিক্যাল কলেজ করার পরামর্শ দেয়া হয় । এ যৌথসভায় তৎকালিন সিপকার আবদুল জব্বারখান সভাপতিত্ব করেছিলেন । সেসময় গৌরনদী কলেজের অধ্যাক্ষ ছিলেন জনাব তমিজ উদ্দিন । এরকম অবস্থায় আমি কলেজ থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা চলে আসি ।

১৯৬৭ সালে আমি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আওতাধীন পূর্ব পাকিস্তান গবেষনা ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ( ইপিআরইসি )প্রধান কার্যালয় ,১৬ বি সড়ক ৭ ,ধানমন্ডিতে ̄স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম। পরিচালক ছিলেন ড: আকতার ইকবাল বেগম । সেসময় বন্ধু জাহাংগীর হায়দার ,নুরুল হুদা ,মোশাররফ হোসেন , আবুল হাসনাত কুদ্দুস , আলী মাহবুব আমার সহকর্মী ছিলেন ।

১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে পপুলেশন কাউন্সিলের বৃত্তির জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বার্কলির জন্য নির্বাচিত হয়ে যাই। বার্কলির বৃত্তি নির্বাচনী সিলেকশনে সেসময় উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যারল্ড ̧ ̄গুস্তাফসন,ফোর্ড ফাউন্ডেশনের পাকিস্তান প্রধান ড: টিমোথি জনসন ,পরিবার পরিকল্পনা সচিব আলতাফ গওহর ,মহা পরিচালক ড: নাফিস সাদেক এর মিলিত বোর্ড আমাকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করেছিলেন । প্যানআম বিমানের টিকেট হয়ে গিয়েছিল ।কিন্তু পুলিশ ছাড়পত্রের জন্য অনেক সময় লেগে যাওয়ায় নির্ধারিত সেশন আর ধরতে পারিনি । মূলত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন কেন্দ্র করে ৩ মাস রাজবন্দি থাকার কারণে আমার পুলিশ ছাড়পত্র পেতে দেরি হয় । পরে শিক্ষা সচিব জনাব বোরহানউদ্দিন ও স্বরাস্ট্র সচিব সালাউদ্দিন , আইজিপি মুহিউদ্দিনের কাছে দৌড়ঝাপ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্র , মার্কসশীট , ট্রান্সক্রিপটসহ পুলিশ ছাড়পত্র ও পাসপোর্ট ১৭/১৮ দিনের মধ্যে যোগাড় করি । অবশেষে পরবর্তী সেশনে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়,বার্কলিতে ভর্তি হয়ে ১৯৬৮ সালের ফল সেশনে এমপিএইচ ডিগ্রিী অজর্ন করে বাংলাদেশে ফিরে আসি । তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নিয়ে ঢাকা ছিল উত্তাল।

১৯৬৬ সালে যুগলজীবনে প্রবেশ

একদিকে কর্মজীবন নিয়ে যখন দৌড়ঝাপ চলছে তখন ব্যক্তিগত জীবনের সূত্রপাত হয়। টরকি বন্দর কলেজ গড়ার সময় বরিশাল জেলার গৌরনদীর কশবা এলাকার মেয়ে আইননের সাথে আমার বিবাহ হয় । তার বাবা জনাব মতিউর রহমান । পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে পেশওয়ারে কর্মরত ছিলেন ।

কিন্তু আমার পছন্দে পরিবার থেকে আপত্তি আসায় গৌরনদীর কাজী অফিস এড়িয়ে প্রচন্ড শীতের মধ্যে রিকশায় করে চলে গিয়েছিলাম ১৩/১৪ মাইল দূরে মাদারিপুর । সেখানে আমার পক্ষে সামসুদ্দোহা, মন্টু ভূইয়াসহ ৪জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে কাজী সাহেব আমাদের বিয়ের নিবন্ধনসহ কাবিনের কাজ সম্পন্ন করেন । সেই থেকে আমাদের যুগল পথ চলা । দুটি ছেলে এখন বড় হয়েছে ।বড় ছেলে আরবান ক্যাম্পেইনে ডাক্তার । বৌমা রুমানা একজন আইনজীবি । সে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের শিক্ষক। ছোট ছেলে রন শিকাগোতে আমার কাছাকছি বসবাস করছে । পড়াশোনা শেষকরে তার স্ত্রী সেতুকে নিয়ে নিজস্ব একটি ব্যাবসা করছে (চলবে )।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com