Notice :
Welcome To Our Website...
স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের বীরত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সমাবেশ

স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের বীরত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সমাবেশ

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলনের বীরত্বপূর্ণ ঘটনার স্মরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (হাবিব-ননী) কেন্দ্রীয় সংসদ আজ (২৩ মার্চ) মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন চত্ত্বরে সমাবেশ করে।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি মাসুদ আহাম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল হক ননী, সাবেক ছাত্র নেতা তছিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি আরিফুল হক পাপ্পু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সহ-সম্পাদক হাসানাতুজ্জামান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল রাজবংশী, সহ-দফতর সম্পাদক ইমরান আলী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পাল, কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য তানিয়া ইসলাম তন্বী, হাসান আজিজ জনি, সৌহার্দ ইসলাম অর্ক, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মারুফ বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা লেলিন খান প্রমূখ। সমাবেশ পূর্বে ছাত্রলীগের কয়েকশত নেতা-কর্মী মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় পতাকা, বর্তমান জাতীয় পতাকা ও ছাত্রলীগের ঐতিহ্যবাহী পতাকা সুসজ্জিত বর্ণাঢ্য একটি পতাকা মিছিল বের করে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের পতাকা আজও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্তানপন্থীরা মেনে নেয়নি। পাকিস্তানপন্থীরা এখনও প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা পাকিস্তানপন্থী এই ধর্মান্ধ জঙ্গীবাদী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি ও তাদের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে রুখে দাঁড়ানোর আহবান জানান। বক্তারা হেফাজতের সাথে সরকারের আপস ও নমনীয় নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি থেকে সরে গেলে ছাত্রসমাজ ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি উর্ধে তুলে ধরতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

অগ্নিঝরা মার্চ। স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়লো সবখানে
১৯৭১ সালের এ দিন পাকিস্তান রাষ্ট্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়া হয়। এ দিন পূর্ব বাংলার কোথাও পাকিস্তনের পতাকা ওড়েনি। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রলীগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে পাকিস্তান রাষ্ট্রের কবর ও স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উত্থান অনিবার্য করে তোলে।

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চের লাহোর প্রস্তাবের স্মরণে পাকিস্তানের জাতীয় দিবস ‘পাকিস্তান প্রজাতন্ত্র দিবস’ প্রত্যাখ্যান করে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ স্বাধীন কেন্দ্রীয় বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব বাংলায় জাতীয়ভাবে ‘প্রতিরোধ দিবস’ পালন করে। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রলীগের তত্ত্বাবধায়নে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে গঠিত ‘জয় বাংলা বাহিনী’ এদিন পল্টন ময়দানে লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে পূর্ণ সামরিক কায়দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। ‘জয় বাংলা বাহিনী’র প্রধান কামরুল আলম খান খসরুর (পরবর্তীতে ‘ওরা ১১ জন’ খ্যাত চিত্রনায়ক) .২২ বোর রাইফেলের প্রকাশ্য গান ফায়ারের সাথে ‘জয় বাংলা বাহিনী’র উপ প্রধান হাসানুল হক ইনু (বর্তমানে জাসদ সভাপতি ও সংসদ সদস্য) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। ‘জয় বাংলা বাহিনী’র নারী ও পুরুষ কন্টিজেন্টের সদস্যরা ডামী রাইফেল নিয়ে মার্চ পাষ্ট করে পতাকার প্রতি সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানান। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা আ স ম আবদুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন, নূরে আলম সিদ্দিকী ও শাজাহান সিরাজ মার্চ পাষ্টে অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় মাইকে জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ বেজে ওঠে। এরপর ‘জয় বাংলা বাহিনী’ রাজপথে সামরিক কায়দায় মার্চ পাষ্ট করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরস্থ বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে যায়। সেখানে বঙ্গবন্ধুর হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তুলে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু পতাকাটি নিজ বাসভবনে উত্তোলন করেন। এদিন কূর্মিটোলা ক্ন্টযনমেন্ট, প্রেসিডেন্ট হাউস, মার্কিন কনস্যূলেট ছাড়া ঢাকায় হাইকোর্ট, সচিবালয়, বিচারপতিদের বাসভবন, বিদেশী কূটনৈতিক মিশন সহ সরকারী-বেসরকারী সকল ভবন ও স্থাপনার শীর্ষে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তৈরি ও বিতরণ করা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। একইভাবে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পূর্ব বাংলার সকল জেলা, মহকুমা, থানায় সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে এদিন ঢাকা টেলিভিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করে দেয় যাতে করে টেলিভিশনে পাকিস্তনের পতাকা প্রদর্শন করতে না হয়। রেডিওতে বার বার জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ বাজানো হয়। এ দিন সকল বাংলা দৈনিকে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম প্রদত্ত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার নকশা ছাপানো হয় যা দেখে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে পতাকা তৈরি ও উত্তোলন করে।

এ দিন হঠাৎ করেই বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও অন্যান্য পশ্চিম পাকিস্তানি নেতাদের সাথে আলোচনা থেকে নিজেকে সরিয়ে আনেন। জুলফিকার আলী ভূট্রো ও খান আবদুল কাইয়ূম খান প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে জুলফিকার আলী ভূট্রো সাংবাদিকদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের ৬ দফার ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্ত্বশাসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ৬ দফার ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবি স্বায়ত্ত্বশাসনের চাইতে অনেক বেশী, প্রায় স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের কাছাকাছি।

এ দিন ভাসানী ন্যাপ ‘স্বাধীন পূর্ব বাংলা দিবস’ পালন করে। ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন), ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া) সহ পূর্ব বাংলার বিভিন্ন ছাত্র, নারী, শ্রেণী-পেশার সংগঠন ঢাকা সহ সারা দেশে সভা-সমাবেশ-শোভাযাত্রা-মিছিল করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com