Notice :
Welcome To Our Website...
সুন্দরবনে করোনাকালে ১২৪ কেজি হরিণের মাংস ও ২৩টি জীবিত হরিণ উদ্ধার

সুন্দরবনে করোনাকালে ১২৪ কেজি হরিণের মাংস ও ২৩টি জীবিত হরিণ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ১৯ মার্চ থেকে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় সুন্দরবনের পর্যটননির্ভর অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ছয় মাস আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সুন্দরবনের আশপাশের অধিকাংশ মানুষ। অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বনে প্রবেশ করে হরিণসহ অন্যান্য প্রাণী হত্যা, কর্তন নিষিদ্ধ গাছ কাটা ও বিষ দিয়ে মাছ ধরার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

গত ছয় মাসে এসব অপরাধে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগে শতাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩৪৩ জনকে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ১২৪ কেজি হরিণের মাংস, জীবিত হরিণ ২৩টি, প্রায় ৭০ ঘনফুট কাঠ। যদিও বন কর্মকর্তাদের দাবি, করোনাকালে কঠোর নজরদারির কারণে সুন্দরবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কম সংঘটিত হয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ১ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ৭৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১টিতে জরিমানা, ১৫টিতে চালান ও ১৯টিতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ৫৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন গ্রেফতার হয়েছেন।

চালান দেয়া ১৫টি মামলার মধ্যে ছয়টি বিষ প্রয়োগের, দুটি গাছ কর্তনের ও সাতটি বন্যপ্রাণী ক্ষতিসাধনের। এ সময়ের মধ্যে ছয়টি ট্রলার, পাঁচটি নৌকা, বিষের বোতল ১৩টি, ৩৩ কেজি হরিণের মাংস, একটি হরিণের চামড়া, ২২টি জীবিত হরিণ, ৩ হাজার ৯৪৮ ফুট ফাঁদ জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ১৮৬ কেজি চিংড়ি, ১৩০ কেজি সাদা মাছ, ১১টি জাল, ৩০০ ফুট দড়ি বড়শি, তিনটি ককসিট, ১৯ দশমিক ৫৩ ঘনফুট সুন্দরী গোলকাঠ ও ৬৫ ঘনফুট জ্বালানি কাঠ জব্দ করা হয়। এছাড়া ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চালানের ১১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বিষ প্রয়োগের সাতটি, বন্যপ্রাণী ক্ষতি করায় চারটি ও অন্যান্য দুটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় ৪৬ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়ে ১৪টি নৌকা, একটি ট্রলার, ১৯টি বিষের বোতল, ৮৭ কেজি হরিণের মাংস, হরিণের মাথা ছয়টি, হরিণের পা ২৪টি, ১ হাজার ১০০ ফুট ফাঁদ, ৫৫ দশমিক ৪০ কেজি চিংড়ি মাছ, ২৫ কেজি সাদা মাছ, ইলিশ ধরার জাল ৩০০ ফুট, সাধারণ জাল ১৭টি, দড়ি বড়শি ৬৭০ ফুট জব্দ করা হয়েছে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় সূত্রে জানা গেছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৪৪ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৯ দশমিক ৬২ ঘনফুট গোলকাঠ, হরিণের শিং একটি ও জীবিত হরিণ একটি জব্দ করা হয়েছে। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশির আল মামুন বলেন, তুলনামূলকভাবে করোনাকালীন সুন্দরবনে দস্যু উৎপাত কম ছিল। বন কর্মীরা সতর্কতার পাশাপাশি বন সুরক্ষায়ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ায় এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বননির্ভর অধিকাংশ মানুষই করোনাকালে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

তাই বাধ্য হয়ে বনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের নীল কমল, পাথকষ্টা, গেওয়াখালীর অংশবিশেষ, নোটাবেকি, মান্দারবাড়ি, পুষ্পকাটিসহ বনের অন্য সব অভয়ারণ্য এলাকায় অসাধু জেলেরা মাছ শিকার করছে। নীলকমল অভয়ারণ্যের শিসখালী ও বালি নদীর আশপাশের এলাকা, চান্দাবুনি ও বুন্দো নদীসহ আশপাশের খালে মৎস্য ব্যবসায়ী, জহির মেম্বর, আব্দুল মাজেল, মফিজুল, এছাক ও মালেকের জেলেরা মাছ শিকার করছেন। এছাড়া নোটাবেকি, পুষ্পকাটি অভয়ারণ্যের নান্দী ও জলঘাটাবন এলাকার নদী-খালে মৎস্য ব্যবসায়ী ও রজব আলী, কামরুল গাজী, মহিদুলসহ কয়রা ও শ্যামনগরের শতাধিক জেলে মাছ শিকার করছেন। সম্প্রতি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিষ মেশানো চিংড়ি মাছ, কয়েকটি নৌকা, জাল এবং দুই বোতল বিষসহ দুজনকে গ্রেফতার করে। পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, গত ১ মে ভোর ৫টার দিকে পক্ষী চরের একটি খালের মধ্য থেকে জেলে ছদ্মবেশী দুই শিকারিকে আটক করা হয়।

এ সময় আটককৃতদের ট্রলার থেকে ১ হাজার ২৫০ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন জানান, গত ৫ মে শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া ২২টি জীবিত হরিণ বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় ৩০ কেজি হরিণের মাংস, হরিণ শিকারের ফাঁদ ও ট্রলারসহ তিন শিকারিকে আটক হয়। তিনি জানান, গত ১০ আগস্ট ইলিশ শিকারের অনুমতি নিয়ে অভয়ারণ্যে প্রবেশ করেন নয় জেলে। পরে তারা বিষ ঢেলে মাছ শিকার করার সময় আটক করা হয়। জেলেরা জানান, গহিন সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকা থেকে মাছ ধরে নৌকাযোগে লোকালয়ে পৌঁছাতে পথেঘাটে ম্যানেজ করে চলতে হয়। বড় কর্মকর্তাদের স্পিডবোটের সামনে পড়লে আর রেহাই পাওয়া যায় না। এছাড়া অভয়ারণ্যে মাছ শিকারের সুযোগ করে দেয়ায় অভয়ারণ্য এলাকার বনরক্ষীরা নৌকাপ্রতি ১ হাজার টাকা করে নেন। পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. আবু সালেহ বলেন, অভয়ারণ্য এলাকায় প্রবেশ একেবারে নিষিদ্ধ। বন বিভাগের স্মার্ট প্যাট্রোলিং টিম নিয়মিত টহল দিচ্ছে। অভয়ারণ্যের নদী-খালে মাছ শিকার করা অসাধু জেলেদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈনউদ্দিন বলেন, ‘সুন্দরবনের পরিবেশের স্বার্থে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পর্যটকদের জন্য সুন্দরবন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে বনে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে বনকর্মীরা সক্রিয় রয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com