Notice :
Welcome To Our Website...
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে চীন

‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে চীন

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সরকার ক্ষমতা নেয়ার প্রাক্কালে দেশটির গোয়েন্দা প্রধান চীন নিয়ে তার এবং তার সংস্থার অবস্থান খোলাখুলি প্রকাশ করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি চীনের বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর কিছু অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকায় দীর্ঘ এক লেখায় জন র‌্যাটক্লিফ বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীন ‘গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি’ হিসাবে দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চুরি করে চীন তাদের ক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে এবং বিশ্ব বাজার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে হটিয়ে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক আরো বলেন, চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সংঘাতের জন্য তৈরি হচ্ছে। চীনের এখন লক্ষ্য অর্থনীতি সামরিক এবং প্রযুক্তিকে বিশ্বে তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, র‌্যাটক্লিফের কথা ‘মিথ্যার ফুলঝুরি’।

শুক্রবার বেইজিংয়ে তাদের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং বলেন, আমরা আশা করি মার্কিন রাজনীতিকরা সত্যকে মর্যাদা দেবেন, ভুয়া সংবাদ তৈরি এবং বিক্রি বন্ধ করবেন … না হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা আরো প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান জন র‌্যাটক্লিফ তার লেখায় আরো বলেন, আমেরিকার প্রধান শত্রু এখন রাশিয়া নয়, বরঞ্চ চীন।

তিনি বলেন, চীন যে “অর্থনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তিতে“ লিপ্ত রয়েছে তার লক্ষ্যই হচ্ছে “চুরি, নকল এবং হুবহু পণ্য তৈরি“।

উদাহরণ হিসাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি চীনা যে প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি চুরির জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তারা যখন সারা বিশ্বে উইন্ড টারবাইন বিক্রি করেছে, তখন চুরির শিকার মার্কিন কোম্পানি ব্যবসা হারিয়ে বহু শ্রমিক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মেধা-স্বত্ব চুরি হচ্ছে। প্রযুক্তি চুরির জন্যে এফবিআই গোয়েন্দাদের হাতে অনেক চীনা নাগরিক আটক হচ্ছেন। “ এমনকি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রধান গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত চীনের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার ডলার করে পাচ্ছিলেন।“

সামরিক শক্তি বাড়াতে চীন কতটা মরিয়া তা বলতে গিয়ে মি র‌্যাটক্লিফ দাবি করেন যে আমেরিকার কাছে গোয়েন্দা এমন তথ্য রয়েছে যে চীন কৃত্রিমভাবে তাদের সৈন্যদের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষমতা বাড়াতে সৈন্যদের ওপর সরাসরি পরীক্ষা চালাচ্ছে।

র‌্যাটক্লিফ লিখেছেন শুধু আমেরিকা নয়, অন্যান্য অনেক দেশই এখন চীনের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

“চীন বিশ্বাস করে বিশ্ব ব্যবস্থার শীর্ষে তাদের না থাকা ঐতিহাসিকভাবে ভুল এবং অন্যায়। সেই বাস্তবতা তারা বদলাতে চায়।“

এছাড়া, তিনি বলেন, চীনারা যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস অর্থাৎ পার্লামেন্ট সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। “বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে চীন প্রভাবিত করছে যাতে তারা যেন চীনের ব্যাপারে নমনীয় অবস্থান নিতে স্থানীয় রাজনীতিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।“

তিনি বলেন, কংগ্রেস সদস্যদের ওপর প্রভাব বিস্তারে চীনের চেষ্টা রাশিয়ার চেয়ে ৬ গুণ এবং ইরানের চেয়ে ১২ গুণ বেশি।

তথ্য সূত্র: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com