Notice :
Welcome To Our Website...
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি : সবার উপরে দেশ ও জনগন

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি : সবার উপরে দেশ ও জনগন

মোশাররফ হোসেন : বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। তিনবছরের করোনা মহামারিকে জয় করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ৭.২৫এর ওপরে। উন্নয়নের মহাসড়কে পৌছেছে। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর, ঢাকায় মেট্রোরেল ও চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর তলদেশ দিয়ে কর্ণফুলি টানেল চলতি বছরের শেষে শুরুর অপেক্ষায় দেশের জনগন।

পাবনার রুপপুরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজ দ্রুত সমাপ্তির পথে, পুকুরিয়া ও রামপালে কয়লা বিদ্যুত কেন্দ্র ,মহেষখালির মাতারবাড়িতে বায়ুবিদ্যুত কেন্দ্র থেকে বিদ্যুত উৎপাদন শুরু হবার পর জাতীয় গ্রীডে বিশাল সরবরাহ যুক্ত হবে।

মাত্র ৩০০০ মেগাওয়াট থেকে এখন ২৫হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করছে বাংলাদেশ। শুধু কাপ্তাই পানিবদ্যুত চলছে দীর্ঘকাল। কিন্তু সারাদেশ আলোকিত করা, শিল্প কারখানাসহ ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌছে দিয়েছে সরকার। বিদ্যুতের চাহিদা বিশাল। ভবিষ্যত চিন্তা করে স্বল্পমেয়াদী কুইক রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্রের পাশাপাশি বৃহত্তর বিদ্যুত প্রকল্প শুরু করেছিল সরকার। যা ধাপে ধাপে শেষ হবে। তবে ভারতের ত্রিপুরা ও নেপাল থেকে পানিবিদ্যুত আনার বিষয় প্রক্রিয়াধীন। উৎপাদন খরচ কম বলেই এ উদ্যোগ। এসব মিলে ধীরে ধীরে বর্তমান সমস্যা লাঘব হবে বলে বিদ্যুত মন্ত্রনালয় তথা সরকার মনে করছে। তবে বর্তমান সংকট আগামী শীত মৌসুমে সমাধানের আশা করছেন তারা।

অপরদিকে জা¡লানি তেলের দাম সমন্বয় করে নতুন ভাবে ধার্য্য করার পর এর প্রভাবে দ্রব্যমূল্য ক্রমশ: বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন গেল ৬ মাসে জ্বালানি তেল বিক্রয়ে ৮০১৫ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। এতে করে ডিজেল ও কেরোসিন ৮০ টাকা থেকে ১১৪, পেট্রোল ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা ,অকটেন ৮৯ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা হয়েছে । এটা কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখা জরুরি।

যদিও বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশসমূহসহ বিশ্বের অনেক দেশ থেকে আমাদের জ্বালানি তেলের দাম ইতিপূর্বে কম ছিল । যা এবার সমন্বয় করা হয়েছে ।বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উর্ধ্বগতির কারণে ভারতসহ প্রতিবেশি বিভিন্ন দেশ নিয়মিত তেলের দাম সমন্বয় করে থাকে ।কোলকাতার তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেল প্রতি লিটার ৩৪.০৯ এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ৪৪.৪২ টাকা কমে বিক্রয় হচ্ছিল। দাম কম হওয়ায় তেল পাচার হওয়ার আশংকা শতভাগ। এশিয়ার মধ্যে নেপালে ডিজেল ১২৭ টাকা, ইন্দোনেশিয়া ১৩৮টাকা, সিংগাপুর ১৮৯টাকা, চীন ১১৮টাকা, আরব আমিরাত ১২২.৮০টাকা ও হংকং ২৬০ টাকায় ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সরকার জনগনের ওপর বাড়তি চাপের কথা মনে রেখে এতদিন তেলের দাম বৃদ্ধি করেনি।

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে সাময়িক সময়ের জন্য দাম বাড়িয়েছে বলে পেট্রলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন। বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন ,আগামী মাসে বিদ্যুতের বর্তমান অবস্থার উন্নতি হবে আশা করছি । গত ৬ মাসে বাংলাদেশ জ্বালানি তেল বিক্রয়ে ৮০৪১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। তেল আমদানিতে মাসিক গড় প্লাটস রেট অনুযায়ী বিপিসির দৈনিক লোকসান : ডিজেলে প্রায় ৭৪,৯৪ ,৯২,৭০০.০০ টাকা ,অকটেনে ২,৯২ ২৩,২১৬.০০টাকা। মোট : ৭৭,৮৭,১৫,৯১৬.০০ টাকা।

সর্বশেষ দাম সমন্বয়ের পর ডিজেল ১১৪.০০ টাকা করা হলেও জুলাই’২২ গড় হিসেবে প্রতি লিটারে খরচ পড়বে ১২২.১৩ টাকা । অর্থাৎ প্রতি লিটারে বিপিসিকে ৮.১৩ টাকা লোকসান দিতে হবে ২০১৬ সালের এপ্রিলে সরকার জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে দিয়েছিল । আবার তা যথাসময়ে সমন্বয় করবে ।

এরপরও সড়ক পরিবহনে বাস মালিকরা মাইল প্রতি নগরে ৩৫ পয়সা ও দূরপাল্লায় ৪৫ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি করেছে । পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে । এটা স্বাভাবিক।

বিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাপন আকাশ ছোঁয়া বিশ্বের সব দেশে বেড়েছে জ্বালানি তেল সহ দ্রব্যমূল্য। বর্তমানে আমেরিকা ১২৮.৫৮ টাকা, কানাডা ১৪০.০৪ টাকা,ভারত ১১২.১৮ টাকা,কোলকাতা ১১৭.৩৪ টাকা দামে জালানি তেল বিক্রয় হছে। টরন্টোয় রেগুলার পেট্রোল প্রতি লিটার ১.৭০ ডলার । যা আগে ছিল ৯৯ সেন্ট । টরন্টো ট্রানজিট প্রতিবার ৩.৫০ ডলার । আগে ছিল ২.২৫ ডলার । সয়াবিন তেল তিন লিটার ক্যান ছিল ৫.৯৯ ডলার, এখন ১২.৯৯ ডলার । মুরগী প্রতি পাউন্ড ছিল ১.২৯ ডলার এখন ৩.২৯ ডলার , গরুর মাংস ছিল ২.৪৯ ডলার, এখন ৪.৯৯ডলার , দুধ প্রতি ৪লিটার প্যাক (২%)ছিল ২.৯৯ডলার ,্ধসঢ়;এখন ৫.৯৯ ডলার ।রুই মাছ ছিল ১.২৯ ডলার ,এখন ২.৪৯ ডলার , সবজি লাল শাক ছিল প্রতি পাউন্ড ২.৯৯ডলার ,এখন ৫.৯৯ ডলার , আটা ২০ পাউন্ড প্যাক ছিল ৫.৯৯ ডলার, এখন ১৩.৯৯ ডলার ,চাউল প্রতি ৮ পাউন্ড প্যাক ছিল৪.৯৯ডলার,এখন ৭.৯৯ থেকে ১২.৯৯ ডলার ।

কানাডা আমদানি নির্ভর দেশ ।তাই দ্রব্যমূল্য বেশি । ফ্ল্যাট ভাড়া টরন্টোয় ২০১১ সালে ১বেডরুম ছিল ৮০০ ডলার , এখন ১৮০০ ডলার । ৪লক্ষ ডলারের বাড়ি এখন ১২ লক্ষ ডলার । ২ বেড ফ্ল্যাট ছিল ২লক্ষ ডলার ,এখন সাড়ে ৫ লক্ষ ডলার । প্রায় একই অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ আন্যান্য শহরে ।জালানি তেল বর্তমানে প্রতি লিটার ১.৩২ডলার । গ্যালন ৪.২৬ ডলার । এটা ওঠানামা করে। দ্রব্যমূল্য এখন আমেরিকা ও ইউরোপের নিত্যদিনের বিষয় । এ নিয়ে কোন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিরোধ, রাস্তায় আন্দোলন কিংবা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ,রাষ্ট্রিয় সম্পদ নষ্ট করা হয়না ।

যেটা হয় তা হল ,দ্রব্যমূল্য বাড়লে তার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা । এরপর প্রতি ৪বছরে নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার দেয়া হয় । যা হল উদ্ভুত সংকট উত্তরনে তাদের ভবিষ্যত কর্মসূচি । রাষ্ট্র পরিচালনা ,বিদেশ নীতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি। সংবিধান মত নির্বাচন পরিচালিত হয় । ক্ষমতার পালাবদল হয় নির্বাচনের মাধ্যমে । আধুনিক ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটে ভোট হয় । গণনা হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে । ফলাফল মেনে নিয়ে বিবৃতি দেয়া হয় । কোনধরনের বড় সহিংসতা দেখা যায়না । নির্বাচনী বিতর্ক হয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে । নির্বাচন পরবর্তীতে ব্যর্থতার জন্য শীর্ষ নেতা বা নেত্রী পদত্যাগ করে নতুন নেতার নেতৃত্ব মেনে নেন । এটাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি । শুধু পার্থক্য হল রাজনৈতিক দর্শণ ।

কার্ল মার্কসের শ্রেণীহীণ সমাজ ব্যবস্থা এখন আর নেই । মিশ্র অর্থনীতির যুগ চলছে । বেঁচে থাকা ও জনকল্যাণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সবার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে দেশ পরিচালনা করছেন বিশ্ব নেতৃত্ব। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে আদর্শবান নেতা নেত্রীর বড় অভাব ।জনসেবার ব্রত নিয়ে রাজনীতি এখন খুবকম দেখা যায় । জনকল্যাণের চেয়ে নিজের ,পরিবার ,দল ,গোষ্ঠির রাতারাতি ধনসম্পদের মালিক হয়ে যাওয়ার সংখ্যা বেশি ।

আমেরিকা ও ইউরোপে চলছে কপোর্রেট নেতৃত্ব । এরা এত শক্তিশালী যে ব্যবসার স্বার্থে সব করে । জনকল্যাণে নয় বরং ব্যবসার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতৃত্ব নির্ধারণে এরা ভ’মিকা রাখে ।গত কোভিড১৯ এর টিকা নিয়ে ব্যবসা করাই ছিল মূল বিষয় । বিশ্ব স্বাস্থ্য
সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টিকার ব্যবসা করেছে । এজন্য জাতিসংঘ কোন জরুরি সভায় বসতে ব্যর্থ হয় ।

মার্কসের হ্যাভস আর হ্যাভ নট তথা শ্রেনীযুদ্ধ এখন আর কোন দেশে নেই । আছে নতুন শ্রেণী : মধ্যস্বত্ব সুবিধাভুগী শ্রেণী । এদের দেশপ্রেম নেই । বাংলাদেশে বিদেশীদের সাথে গোপন আতাত করে অনৈতিকভাবে বিশাল আর্থিক সুবিধা নিয়ে দুটি পত্রিকা ও টিভি পরিচালনা করে চলেছেন দু’জন সম্পাদক । তারা বিদেশী রাষ্টদূতদের সাথে গোপন বৈঠক করেন। গণতন্ত্রের নামে, অধিকারের নামে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ পরিবেশন করে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করেন । রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলে অসাংবিধানিক উস্কানিও দিয়ে থাকেন। দু তিনটি দেশের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি নাক গলায় । তারা সুশীল সমাজের নামে বৈঠকে অংশ নেন । এটা অসাংবিধানিক তো বটে, কুটনৈতিক শিষ্টাচার লংঘন ।আবার বাংলাদেশের ঘরোয়া বিষয়ে বিদেশী কুটনৈতিকদের সাথে উন্মুক্তভাবে মতবিনিময় করে চলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দল । এটা কতটা আইন সম্মত ?

রাজনীতি কার জন্য ?নিজের কিংবা দলের জন্য নয় । জনগনের জন্য রাজনীতি । জনকল্যাণে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে ।সবার উপরে দেশ ও জনগন ।এটাই রাজনৈতিক সংস্কৃতি । বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে এজন্য সদা সতর্ক থাকতে হবে। দেশের স্বার্থে ঐকবদ্ধ থেকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নেবার এখনই সময় ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com