Notice :
Welcome To Our Website...
সর্বশেষ সংবাদ
অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দূর আকাশের তারা হয়ে গেলেন আমাদের ‘ মা পদ্মা বহুমুখি সেতুর উদ্বোধন ২৫ জুন শুরুর বিপর্যয় তাড়িয়ে জোড়া সেঞ্চুরির রেকর্ডময় দিন বাংলাদেশের সংসদীয় দলের সংগে ওয়াশিংটনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ফিনল্যান্ডে শনিবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষতা অর্জন করতে হবে সন্দেহভাজন ৪ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, গানের গীতিকবি ও কিংবদন্তি সাংবাদিক গাফফার চৌধূরী চলে গেলেন,,, আনন্দলোকে, মংগোলা লোকে , সত্য সুন্দর,,
বঙ্গবন্ধু’র চট্টগ্রামের বন্ধুরা

বঙ্গবন্ধু’র চট্টগ্রামের বন্ধুরা

নাসিরুদ্দিন চৌধুরীঃ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে চট্টগ্রামের সম্পর্ক বা চট্টগ্রামের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক নিয়ে কোন আলোচনা কোথাও আমার চোখে পড়েনি। কিন্তু সম্পর্কটা এমন গভীরে নিহিত এবং হৃদয়াবেগপূর্ণ ছিলো যে, তা নিয়ে একটি গ্রন্থও রচিত হতে পারে। এ বিষয়ে কারো মধ্যে কোন কৌতূহল বা ঔৎসু্ক্য আমি দেখিনি। যাঁরা বঙ্গবন্ধুর জীবনী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস লিখেছেন, তাঁদের লেখায়ও বঙ্গবন্ধুর জীবনে চট্টগ্রাম অধ্যায় একরকম উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

চট্টগ্রামের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর এই সম্পর্কের সূচনা ১৯৪৩ সালে, যখন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা আজিজ-জহুরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পঁচাত্তরে দুর্বৃত্তদের হাতে মর্মান্তিক শাহাদাত বরণের পূর্বপর্যন্ত এই সম্পর্ক অটুট ছিলো। ১৯৭৪ সালে পিজি হাসপাতালে চট্টগ্রামের জননেতা ও বঙ্গবন্ধুর কেবিনেটের মন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরীর জীবনাবসানের পর সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বাত্তৃতায় তিনি যা বলেছিলেন, তা বঙ্গবন্ধুর জীবনীকার ও ইতিহাসবিদদের
দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।বঙ্গবন্ধুবলেছেন, তিনি ১৯৪৫ সালে চট্টগ্রামে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছেন। অতঃপর সময় যত এগিয়েছে, বঙ্গবন্ধু চট্টগ্রামের সঙ্গে গভীর ভালোবাসার অচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর কলকাতার জীবন থেকে চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রচিত হয়। উত্তরকালে তাঁদের প্রতে ̈ককেই এক একজন বিখ্যত মানুষ হিসেবে পাই। এম এ আজিজ ও জহুর আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে ও তাঁর সম্পর্ক রচিত হয় কলকাতায়। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনীতে চট্টগ্রামের কয়েকজন মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের উল্লেখ পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধুর জীবনীতে চট্টগ্রামের একজন মানুষের কথা পাই। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানায়। তাঁর নাম মাহববু-এ-আনোয়ার, তিনি পরে
বিখ্যত বিদেশী কোম্পানি রেকিট অ্যান্ড কোলম্যান’র প্রথম ব ̈৩ি হিসেবে বাংলাদেশ প্রধান হয়েছিলেন।

চট্টগ্রামের দৈনিক ‘আজাদী’ পত্রিকার প্রা৩ন সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি ঊনিশশো সত্তর-এ এমএনএ নির্বাচিত হন; পঁচাত্তরে বাকশাল গঠনের সময় বঙ্গবন্ধুর তাঁকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বাকশালের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন।
ঢাকায় বঙ্গবন্ধু যে নতুন রাজনীতি শুরু করেন, যাকে আমরা বলতে পারি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, সেই রাজনীতির সূচনাপর্বে আমরা চট্টগ্রামের একজন মানুষের সন্ধান পাই, যিনি ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রথম উল্লেখযোগ্য কর্মের সহযোগী হয়েছিলেন। তিনি বিচারপতি আবদুল কুদ্দুস তাঁর বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানার কদলপুর গ্রামে।

কলকাতায় মাহববু-এ-আনোয়ার ও অধ্যপক খালেদ, ঢাকায় বিচারপতি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, চট্টগ্রামে এম এ আজিজ ও জহুর আহমদ চৌধুরী ছাড়াও পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে যাঁদেরকে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে পাওয়া যায়, তাঁরা হলেন- মওলানা আবদুর রহমান চৌধুরী (এ আর চৌধুরী), মওলানা আবু তাহের, সালারে জিলা শহীদ শেখ মোজাফ্ফর আহমদ, আমীর হোসেন দোভাষ, রাউজান নিবাসী ডা. সুলতান আহমদ, যিনি পরে কুিমল্লা গিয়ে বসতি স্থাপন করেন, একুশে ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কোর আদায়ের অন্যতম উদ্যোক্তা কানাডা প্রবাসী আবদুস সালামের পিতা ‘লন্ডন শামসু’ নামে খ্যাত ডা. শামসুল আলম, আবিদর পাড়ার সুলতান কন্ট্রাক্টর, সুলতানা জুট মিল ও ইউসুফ টেক্সটাইল-খ্যাত বুলবুল ইউসুফ, বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরীর পিতা আশরাফ আলী রোড নিবাসী মোহাম্মদ আলী চৌধুরী বি.এ., সাবেক সচিব আইয়ুব কাদেরী, সার্জিস্কোপ হাসপাতালের এমডি হাসনাত কাদেরী এবং মুক্তিযোদ্ধা আনিস কাদেরীর পিতা পাথরঘাটা নিবাসী কবির উদ্দিন আহমদ বি.এ. প্রমুখ।

এখানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী একটি ফ্যাক্টর, যাঁর কারণে অনেকে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন এবং পরে বঙ্গবন্ধু ও আজিজ-জহুরের অনুসারী হয়ে যান। মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, কবির উদ্দিন আহমদ বি.এ. সোহরাওয়ার্দীর লোক। স্টেশন রোডে বিআরটিসি বাস টার্মিনালের পূর্ব পাশে ‘ওয়ালেস হোটেল’ নামে একটি হোটেল ছিলো, সোহরাওয়ার্দী সাহেব চট্টগ্রামে আসলে সেই হোটেলে উঠতেন। ওয়ালেস হোটেল পরিচালনা করতেন কবির উদ্দিন আহমদ বি.এ.।
বহুদিন থেকে লন্ডন প্রবাসী ও অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি পাথরঘাটার এম এ গনি, তারিক আহমদ চৌধুরী ও চৌধুরী এন জি মাহমুদ কামাল সোহরাওয়ার্দী সাহেবের প্রভাবে।

পঞ্চাশের দশকের শেষদিকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এরাও পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ অনুসারীতে পরিণত হন। পঞ্চাশের দশকেই চট্টগ্রামের আরেকজন রাজনীতিকের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পরিচয় ঘটে এবং সেই পরিচয় ক্রমান্বয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে পরিণত হয়। তাঁর নাম মানিক চৌধুরী। মানিক চৌধুরীর আসল নাম ভূপতি ভূষণ চৌধুরী, পটিয়া থানার হাবিলাসদ্বীপ গ্রামের অধিবাসী মানিক চৌধুরী পারিবারিকভাবে জমিদার এবং খাতুনগঞ্জের বিশিষ্ট ব ̈বসায়ী ছিলেন।

আছদগঞ্জ পোস্ট অফিস গলির মুখেই মানিক চৌধুরীর একান্নবর্তী বৃহৎ পরিবারের ব ̈বসায়িক গদি ছিলো। পরবর্তীকালে ছাত্রনেতা অমর চৌধুরী ও স্বপন চৌধুরীর পিতা তেজেন্দ্রলাল চৌধুরী এবং তাঁর বড় ভাই প্রফুল্ল রঞ্জন চৌধুরী পারিবারিক ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। মানিক চৌধুরীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর পরিচয় সোনায় সোহাগা হয়েছিলো। উভয়ের সম্পর্ক ও বন্ধতু ¡ থেকে পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতি-প্রক…তি পাল্টে যায়। মানিক চৌধুরীর প্রায় একই সময়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয় ডা. ছৈয়দুর রহমান চৌধুরীর।

ডা. ছৈয়দুর রহমান পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। তবে তাঁদের মূল অবদান হচ্ছে স্বাধীনতা সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধু, মানিক চৌধুরী ও ডা. ছৈয়দুর রহমানকে নিয়ে একটি ত্রিভুজ রচিত হয়েছিলো। সেই ত্রিভুজ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বাঙালি সৈনিকদের দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের সেনানিবাস ̧লিতে একটি সশ ̄¿ অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।

বঙ্গবন্ধু, মানিক চৌধুরী ও ডা. ছৈয়দুর রহমান চৌধুরী-এই ত্রিকোণ সম্পর্কের রসায়ন বাংলাদেশে একটি বিপ্লবের জন্য জমি প্রস্তুত করে ফেলেছিলো। মানিক চৌধুরী বোয়ালখালী নিবাসী তাঁর এক বন্ধু বিধান ‍কৃষ্ণ সেনকেও বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত করেন। বিধান সেনের সঙ্গে ও বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক হয়। তাঁদের গোপন বিপ্লবী সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন আমীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি যার আর্থিক লেনদেনের মধ্যে যখন গরমিল এবং তহবিল তছরুপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তখন তিনি
আর বিলম্ব না করে পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়ে আইএসআই’র সদর দপ্তরে হাজির হন এবং সব কথা ফাঁস করে দেন। বিপ্লবী প্রচেষ্টার সেখানেই ইতি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দারা খুঁজে খুঁজে সবাইকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায় এবং আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করে। বিপ্লবী কর্মকান্ড থেমে গেলো বটে, কিন্তু আগরতলা মামলাই বাংলাদেশের রাজনীতিকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গিয়েছিলো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com