Notice :
Welcome To Our Website...
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

স্টাফ রিপোর্টার: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদের দুই গ্রুপ। আজ বিকেল ৪টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিনামূল্যে সুরক্ষা মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণের সময় এই সংঘর্ষ ঘটে। দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বেশ ক’জন আহত হয় এবং তাদেরকে দ্রুতই নিকটস্থ ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছাকাছি দাড়ানোকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। লালবাগ থানার সহ-সভাপতি খালেদ রাজু, কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু এবং ইকবালের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরেই সংঘর্ষ বাধে। যারা প্রত্যেকেই তারিক সাঈদের বিশ্বস্ত অনুসারী। সংঘর্ষ শুরু হলে মুহুর্তেই চারপাশে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠি-সাঠা নিয়ে আক্রমণ, প্রতিআক্রমণ চালায়। একে একে তিন দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চালায় তারিক সাঈদের দুই গ্রুপ। যার ফলে ভয়ে-আতংকে দিক-বিদ্দিক ছুটে চলে যান মন্দিরে আগমনকারী সকল দর্শনার্থীরা।

এ সময় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে নেতাকর্মীদের শান্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। কিন্তু তার কথাকে এড়িয়ে চলেন তারিক সাঈদের শিষ্যরা। এক পর্যায়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

তবে তারিক সাঈদের গ্রুপের মধ্যে এটাই প্রথম সংঘর্ষ নয়। এর আগে গত আগষ্টে কাকরাইলের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তার গ্রুপ। সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আফম বাহাউদ্দিন নাছিমের গাড়ির সামনে ব্যাপক হট্টগোলও করে তারিক সাঈদের কর্মীরা। কিন্তু তখন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাবু নির্মল রঞ্জন গুহ, সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু এবং সহ-সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুর সরাসরি হস্তক্ষেপে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে সেদিন রাতেই শাহবাগ থানা এবং তার অন্তর্গত ২০ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি স্থগিত করা হয়। যেখানে তারিক সাঈদের প্রত্যক্ষ ইন্দন রয়েছে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

শুধু তাই নয়, তারিক সাঈদের কর্মীদের বিরুদ্ধে চাদাবাজী, দখলদার এমনকি টেন্ডারবাজেরও ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের নবেম্বরে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ, এবং ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তারপর থেকে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে চলে সেবা-শান্তি ও প্রগতির পতাকাবী এই সংগঠনটি। করোনার সংকটে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সহযোগী সংগঠনটি। যা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ইতিবাচক ভাবধারা তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, সেবক লীগের এমন সব কর্মকাণ্ডে শেখ হাসিনারও প্রশংসা অর্জন করে। কিন্তু মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিক সাঈদের এমন কর্মকাণ্ডে যেন তলিয়ে যেতে বসেছে দলের সেসব অর্জন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদ্য নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘দেশব্যাপী ব্যাপক কাজের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইতোমধ্যেই সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে বেশ ভালো অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু তারিক সাঈদের এমনসব কর্মকাণ্ডে আমাদের দলের অর্জিত ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিতে পারে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com