Notice :
Welcome To Our Website...
সর্বশেষ সংবাদ
ঢাকা-টরন্টো-ঢাকা : বিমান উড়বে ২৭ জুলাই ভোররাত ৩:৩০মিনিটে

ঢাকা-টরন্টো-ঢাকা : বিমান উড়বে ২৭ জুলাই ভোররাত ৩:৩০মিনিটে

মোশাররফ হোসেন: বাংলাদেশ ও কানাডার বন্ধুত্বের পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশ বিমান যাত্রা শুরু করবে ২৭জুলাই ভোররাত ৩:৩০মিনিটে। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজি ৩০৫ ডিরিম লাইনার ৭৮৭-৯ টরন্টোয় পিয়ারসন বিমান বন্দরে পৌছাবে দুপুর ০১:৫৫ মিনিটে।তবে যাত্রা পথে তুরস্কের ইসতামবুল বিমান বনদরে তেল নেবার জন্য ১ঘন্টা বিরতি দেবে।

আবার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে একই দিন রাত ৯টায়। ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছাবে পরদিন রাত ১১টায়।

একইভাবে বুধবার টরেন্টো থেকে সন্ধ্যা ০৭:৩০মিনিটে বিজি ৩০৬ ডিরিম লাইনার ৭৮৭-৯ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। বিরতিহীন উড়ে বিমান ঢাকা পৌছাবে পরদিন রাত ০৯৩০মিনিটে।

বিমান সোমবার ঢাকায় সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব কথা জানিয়েছে। এতে তারা বলেছে বিমানে ইকনমি শ্রেণীর ভাড়া যাওয়া ও বিমানের টিকেট এখন পর্যন্ত অনলাইনে ক্রয় করা যাবে। অচিরেই ঢাকা ও টরেন্টো বিমান তার অফিসে টিকেট বিক্রয় শুরু করবে। তবে এজেন্ট নিয়োগের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বুধবার (২৭ জুলাই) থেকে ঢাকা-টরন্টো রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এরই মধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে উড়োজাহাজের দুই-তৃতীয়াংশ আসনের টিকিট। ফাঁকা আছে আরও শতাধিক আসন। এসব আসনে টিকিট বিক্রি চলবে শেষ দিন পর্যন্ত। সেবার মান ভালো হলে তখন প্রতিটি ফ্লাইট যাত্রী পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং টরন্টো ফ্লাইট পরিচালনায় বিমান সফল হবে বলে মনে করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

ঢাকা-টরন্টো রুটে এটিই বিমানের প্রথম ফ্লাইট। তবে ঢাকা থেকে সরাসরি টরন্টো যাচ্ছে না ফ্লাইটটি, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে থাকছে প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি। সেখানে উড়োজাহাজে তেল নেবে। তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বিমান চাইলে তুরস্ক থেকে যাত্রীও নিতে পারবে। তবে টরন্টো থেকে ফেরার পথে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করবে সরাসরি।

ঢাকা-নিউইয়র্ক ও ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইট চালুর বিষয়ে বেশ আগে নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু নানান অব্যবস্থাপনায় সেই নির্দেশনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিমান। পরে গত ২৬ মার্চ সমীক্ষা ও প্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকা-টরন্টো রুটে টেস্ট ফ্লাইট পরিচালনা করে সংস্থাটি। তখন এই ফ্লাইটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মাহবুব আলমসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কানাডার টরন্টো ভ্রমণ করেন। এতে সরকারের খরচ হয় প্রায় চার কোটি টাকা। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে গত জুন থেকে ঢাকা-টরন্টো রুটে ফ্লাইট শুরুর ঘোষণা দেন বিমানের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আবু সালেহ মোস্তফা কামাল। কিন্তু পূর্ণ প্রস্তুতি না থাকায় তারি খ পিছিয়ে ২৭ জুলাই নির্ধারণ করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, বুধবার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত তিনটা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টরন্টো রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হবে। এজন্য বিমানের বোয়িং-৭৮৭ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এখন থেকে সপ্তাহে দুদিন তথা রোববার ও বুধবার ঢাকা-টরন্টো ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান।

উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাড়ে তিনটায় রওয়ানা দিয়ে তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল নয়টায় ইস্তাম্বুলে এক ঘণ্টা বিরতি দেবে। পরে ওইদিন কানাডার স্থানীয় সময় দুপুর একটায় টরন্টোতে অবতরণ করবে। সেখানে কয়েক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে ওইদিনই সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে বিমান। টানা ১৬ ঘণ্টা ফ্লাই করে পরদিন রাত সাড়ে নয়টায় ঢাকায় অবতরণ করবে।

বিমানের এক কর্মকর্তা জানান, এই ফ্লাইটে ২৯৮ জন যাত্রী একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে ২৭ জুলাই যে ফ্লাইট শুরু হবে, সেটিতে সোমবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০টা পর্যন্ত ১৭০টি আসনে টিকিট বিক্রি হয়েছে। ফিরতি ফ্লাইটে টিকিট কেটেছেন ১৭৫ জন। ফ্লাইট পরিচালনার আগদিন পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলবে। এ ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিচ্ছে বিমান। এই হিসেবে ইকনোমিক ক্লাসে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া ৯৫ হাজার টাকা, আর ফিরতি টিকিট কিনলে এক লাখ ৫৩ হাজার ৫৭০ টাকা দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বিজনেস ক্লাসে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া এক লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টাকা, আর রিটার্ন টিকিট কাটলে তিন লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

আসন ফাঁকা রেখে এই বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা কতটা সফল হবে তা জানতে চাইলে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার বলেন, ঢাকা থেকে অনেক উড়োজাহাজ টরন্টোতে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর মধ্যে বিমানের এটি প্রথম যাত্রা। ৮-১০টি ফ্লাইট পরিচালনার পর যাত্রীরা যখন দেখবেন, বিমানের সেবার মান ভালো তখন এমনিতেই যাত্রী পরিপূর্ণ হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর, ঈদের ছুটি, বড়দিন, সামারের ছুটিতে এই রুটে যাত্রীর চাহিদা বেশি থাকে। এই সময়গুলো কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে বিমান। আশা করা যায়, টরন্টো ফ্লাইট পরিচালনায় বিমান সফল হবে।

ঢাকা-টরন্টো রুটে বাণিজ্যিক একটি ফ্লাইট পরিচালনায় বিমানের কী পরিমাণ টাকা ব্যয় হতে পারে, এমন প্রশ্নের জাবাবে তাহেরা খন্দকার বলেন, এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় আয়-ব্যয় বা নিরীক্ষা করতে বিমানের মার্কেটিং রিসার্স সেল রয়েছে। তারা সবকিছু হিসাব করেছেন। কয়েকটি ফ্লাইট চললে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com