Notice :
Welcome To Our Website...
‘চুপ কইরা সহ্য করি বইলা দুর্বল ভাইবো না’

‘চুপ কইরা সহ্য করি বইলা দুর্বল ভাইবো না’

চুপ কইরা সহ্য করি বইলা দুর্বল ভাইবো না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও এই ভাঙচুরে উস্কানিদাতাদেরকে উদ্দেশ্য করে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

তিনি আজ বুধবার বিকেলে নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ৪৯তম বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে এই সতর্ক বার্তা দেন।

ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, শান্তিকামী বাঙালি এক ৭ই মার্চের ভাষণে সশস্ত্রবাহিনী হয়ে গেছে, গেরিলা যুদ্ধ করছে। আমার বাপ গেরিলা যুদ্ধ করছে, রণাঙ্গনে। মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন করছে, ট্রেনিং দিছে, নিজে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছে। সুতরাং আমাদেরকে দুর্বল ভাইবো না। চুপ কইরা বইসা থাকি, সহ্য করি। শুধু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, সংবিধানের স্বার্থ, গণতন্ত্রের স্বার্থে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, জিগাইলাম, ভাস্কর্য ভাঙ্গছো, কেন ভাংছো ভাই? বলে ইসলাম। আরে ভাই, ইসলাম কি তোমার একার? মুসলমান কি তুমি একা? খৎনা কি তোমার একার হইছে, আমার হয় নাই? আরে, তোমার বাপ তোমারে পিটাইয়া মাদ্রাসায় পাঠাইছে আর আমি ঘরে বইসা আলিফ, বা, তা, ছা, জিম, হা শিখছি। তোমারে জোর করছে বইলা তুমি শিখছ। আর আমি স্বইচ্ছায় শিখছি।

তো তুমি আমার চাইতে বড় মুসলমান কোথ থেকে হইলা? আমি তিনটা ভাষা শিখছি – বাংলা, ইংরেজি, আরবি- স্বইচ্ছায়। তুমি তো শিখছ পিঠান খাইয়া। তাইলে তুমি বড় মুসলমান হইলা কিভাবে? কথায় কথায় তারা ইসলামের কথা কয়। আরে, একটা আকাম করবে তারপর হাদিস আর কোরআন নিয়া আসবে। হাদিস আর কোরআন কি তুমি একা পড়ছ? তুমি না হয় কয়েকটা আয়াত মুখস্থ করছ। আর কোরআন শরীফ আমিও কয়েক দফা পড়ছি- তেলাওয়াত শেষ করছি, অর্থ শেষ করছি, তরজমা শেষ করছি। হ্যাঁ মুখস্থ করিনি। তুমি মুখস্থ করছ, তোমারে পিটাইয়া মুখস্থ করাইছে।

কইতে থাকবি, কইতেই থাকবি, তোতাপাখির মতো কইতে থাকবি। নাইলে তোরে বেত দিয়া পিটামু, কান ধইরা উঠবস করামু। তুমি সেজন্য মুখস্থ করছ,আর আমি সারা বিশ্বের সব কিছু শেখার জন্য তোমার মত মুখস্থ করি নাই। এই মুখস্থ শিক্ষার জন্য, পড়ার জন্য তুমি আমার চাইতে বড় মুসলমান হয়ে যাবা, আলেম হয়ে যাবা, এটা হলো? আমার পরিবারের দুজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তি এই ভূখণ্ডের পদার্পণ করেছিলেন।

ইসলামের জন্য, ইসলামের প্রচারের জন্য এই ভূখণ্ডে আসছিলেন। আমার পরদাদা দরবেশ শেখ আব্দুল আউয়াল। ইসলামের জন্য জীবন দিয়ে চলে গেছেন। শেখ বোরহান উদ্দিন, তিনি ছিলেন বিজ্ঞ আলেম, ফরিদপুর এলাকায় আধ্যাত্মিক জগতের স্বনামধন্য আলেমদের একজন। আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর যদি ঐশ্বরিক ক্ষমতার না থাকতো তাহলে জাতিকে স্বাধীনতা দিতে পারত না। আর দুই আয়াত মুখস্থ কইরা তুমি হইয়া গেলা বড় আলেম! বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গো?

এ সময় ষড়যন্ত্রকারী ও ষড়যন্ত্রের উস্কানিদাতাদের উদ্দেশ্যে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ছাগলের দুই বাচ্চা মায়ের দুধ খায় আর না বুইঝা তিন নাম্বার বাচ্চা খালি ফালায়। কি কয়- গৃহযুদ্ধ! আরে তুই ব্যাটা সংস্কারবাদী, তুই কস গৃহযুদ্ধ! তোর কথায় গৃহযুদ্ধ হইব? শেখ হাসিনারে দুর্বল মনে করছ? আরে, ৮১ সাল থেকে সংগ্রাম কইরা কইরা দেশটারে আজকে এই জায়গায় নিয়ে আসছে।

কত কিছু হইল? জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করলা, নিশ্চিহ্ন করে দিছে জঙ্গিবাদ, নাই বাংলাদেশের মাটিতে আর জঙ্গিবাদ। ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের টাইনা নিয়া আইসা ফাঁসিতে লটকাইছে, এটার নাম হলো শেখ হাসিনা। তোমার নেত্রীরে এখন পর্যন্ত বের করতে পারো না, একটা উচ্চারণ করো না তোমার নেত্রীর ব্যাপারে। আর তুমি আমারে গৃহযুদ্ধের ভয় দেখাও? আমরা কি চুড়ি পড়ে আছে নাকি? শেখ হাসিনা চাইলে ৭ দিনও তো লাগবো না, তোমরা কেউ যত কথা কও। শেখ হাসিনা তো গণতন্ত্র পালন করে, সংবিধান সমুন্নত রাখতে। তাই সব হজম করছে, সহ্য করছে। কারণ সে জাতির পিতার কন্যা। সংবিধান এবং গণতন্ত্রের বাইরে যায় নাই, নয় মাস জেল খাটছে নিজে- শুধুমাত্র গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য।

ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস এ সময় আরও বলেন, তোমরা ২১ অগাস্ট ঘটাইছিলা। পরের দিন তো ভাবছিলা – তোমরা পইরা যাবা, শেখ হাসিনা পরতে দেয় নাই। থাকো ২০০৬ আসবে, ২০০৮ আসবে। এই হলো শেখ হাসিনা। মেধা-বুদ্ধি তো একদম নাই তোমাদের। ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মতো ফালাইতে থাকো। শেখ হাসিনারে বুঝতে চেষ্টা করো, মেধা খাটাও, বুদ্ধি খাটাও। ওই লন্ডন থেকে ওহি নাযিল হলে বুদ্ধি-মেধা থাকে না। আর গৃহযুদ্ধের কথা বলে আমাদেরকে!

নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ আমাদের জন্য গর্বের উল্লেখ করে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাঙালি জাতি আমি স্বাধীন করেছি গোলামী করার জন্য না। আজকে আমরা কারো গোলাম না। নিজ টাকায় বানায়। সেটা ৮ হাজার কোটি টাকা লাগুক, ২২ হাজার কোটি টাকা লাগুক, এক লক্ষ কোটি টাকা লাগুক, আমরা নিজ অর্থে দেবো। গর্বের জায়গায় আসতে হবে,যে, আমরা পারি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, বাঙালি ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করেনি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি দল ক্ষমতায় এসে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলে দেশে দুর্ভিক্ষ, খাদ্য ঘাটতি থাকলে ভিক্ষা পাওয়া যায়। আর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করা হয়নি। এদেশের মানুষ নিজেদের আত্মমর্যাদা নিয়ে সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচবে’।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গা প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের উপর আঘাত করলে, ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে জাতির পিতাকে অসম্মানিত করলে, পুরো জাতির বুকের রক্তক্ষরণ হয়। তাই এধরণের কার্যক্রম দেশের মাটিতে আর করতে দেয়া হবে না। যদি কেউ চেষ্টা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা মোকাবিলা করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান অতিথি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সারাজীবনের লড়াই-সংগ্রামের ফলে, ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং দুই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। হাজারো কষ্টের বিনিময় লালিত স্বপ্নের স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু যখন দেশে ফিরে আসেন তখন বাঙালি জাতি সেই দুঃখ কষ্ট ভুলে যায়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে যে উন্নয়নের যাত্রা শুরু করেছিলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের সে সকল গৃহীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় এনে লাল-সবুজের পতাকাকে কলঙ্কিত করেছে। আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে দেশী-বিদেশী দোসরদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডিসহ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সকল প্রতিষ্ঠানে চলমান কার্যক্রমের গুণগত মান এবং রাষ্ট্র পরিপন্থী কাজের সাথে যুক্ত থাকলে কারও সাথে কোন আপোষ করা হবে না। কেউ যদি নিম্নমানের কাজের সাথে, দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সচিব আকরামুজ্জামান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউর রহমান,প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com