Notice :
Welcome To Our Website...
কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিতে কমেছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিতে কমেছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কঠোর হুঁশিয়ারিতে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। অতীতে প্রতিটি পৌরসভায় গড়ে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন তিন জন। আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ২৫ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে আটটি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ৬১ পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর।

দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় আওয়ামী লীগকে। আগ্রহী প্রার্থীরা দলের মনোনয়ন না পেলে কোনো কোনো জায়গায় বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যান। কোনো কোনো জায়গায় দুই, তিন, চার জনের বেশিও বিদ্রোহী প্রার্থী হতে দেখা যায়। কিছু জায়গায় বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বসানো হলেও সবাইকে বা সব জায়গায় সেটা সম্ভব হয় না। এর ফলে দল মনোনীত প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। স্থানীয় নেতাকর্মীর মধ্যে বিভাজনের ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হন। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন, তাদের দলীয় পদ-পদবি থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে দলের কোনো পদ-পদবিতেও আসতে পারবেন না তারা। এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থীরা আগামীতে আর কখনোই দলের মনোনয়ন পাবেন না। তবে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও দলের নির্দেশ মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে তাদের পরবর্তীতে অন্যান্য জায়গায় মূল্যায়ন করা হবে।

এদিকে অতীতে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জিতেছিলেন, তাদেরও এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অতীতে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন তারা জনপ্রিয় হলেও এবার মনোনয়ন পাবেন না। সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই ৮৬ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের মতামত, বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট আর কেন্দ্রীয় নেতাদের চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দলীয় ফোরামের আলোচনায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, যাকে প্রার্থী করা হবে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। অতীতে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন তারা জনপ্রিয় হলেও এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

দলের হাইকমান্ডের এমন কঠোর অবস্থানে এবারের পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক অনেকটাই কমে আসছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ২৫টি পৌরসভা নির্বাচনে আটটিতে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তাদের বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। বুঝিয়ে কাজ না হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই আটটি পৌরসভার মধ্যে কেবল হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন তিন জন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তারা। ফলে দলীয় মেয়র প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা অস্বস্তিতে রয়েছেন। কোথাও কোথাও প্রতিপক্ষ বিএনপিসহ অন্যান্য দলের শক্তিশালী প্রার্থী থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এসব বিদ্রোহী প্রার্থী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকেই এবারের পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে এমন কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। এরপরও প্রথম ধাপের ২৫ পৌরসভার মধ্যে ১১টিতে ১৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। পরে প্রার্থিতা বাতিল অথবা দলীয় কঠোর অবস্থানের মুখে নিজেরাই প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কমপক্ষে সাত জন বিদ্রোহী প্রার্থী কমে যায়। বর্তমানে এই আট পৌরসভায় ১০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 doorbin24.Com